সিলেট, ৯ জুলাই – সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শর্তসাপেক্ষে তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন তারা। তবে তারা জানিয়েছেন, আগামী শনিবার থেকে কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. রাকিন হান্না আনান। তিনি জানান, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আগামী শনিবার থেকে সব ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মস্থলে যোগদান করবেন। এই লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া আগামী শনিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) নেতৃবৃন্দের আলাদা একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির।
বিবৃতিতে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, মানবসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের সহিংস হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাসপাতাল ও ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চিকিৎসকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা, হাসপাতাল ও ক্যাম্পাসে স্থায়ী ও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং প্রয়োজনে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা। এ ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে বহিরাগত ও ভবঘুরেদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ, রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অ্যাটেনডেন্ট প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, অ্যাটেনডেন্ট পাস কার্ড ব্যবস্থা কার্যকর করা, হাসপাতালের প্রধান গেটগুলোতে মানুষের চলাচল ও অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য যথাযথ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত আরও কঠোরভাবে বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসমানী হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে দায়িত্বরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যাতে অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার জেরেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন, যা এখন শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার হলো। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।
ওসমানী মেডিকেলে শর্তসাপেক্ষে ধর্মঘট প্রত্যাহার, শনিবার থেকে কাজে ফিরছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা




