লন্ডন, ৮ জুলাই: রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ ক্ল্যাকটন আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে পরবর্তী উপনির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এটি হবে জনগণ বনাম প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি উপনির্বাচন। আমার কর্মকাণ্ডের বিচার করবেন ক্ল্যাকটনের জনগণ।”
এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন তার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে নিবন্ধন না করার অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। সানডে টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সহযোগী জর্জ কটরেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত কর্মী সহায়তা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুবিধা তিনি সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ঘোষণা করেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফারাজ বলেন, “আমি কোনো ভুল করিনি।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যম তার পরিবারকে অযথা হয়রানি করছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে সংসদীয় মানদণ্ডসংক্রান্ত তদন্ত এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার হারবর্নের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি অনুদানও সংসদীয় নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত না করায় তিনি সমালোচনার মুখে রয়েছেন। ফারাজের দাবি, ওই অর্থ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেনরি জেফম্যানের মতে, ফারাজ উপনির্বাচনে আবার জিতলে তার বিরুদ্ধে চলমান সংসদীয় তদন্ত পুনরায় কার্যকর হবে। সংসদের বিধি অনুযায়ী, সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তদন্তও আবার শুরু হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ফারাজের সিদ্ধান্তকে “একটি মরিয়া রাজনৈতিক কৌশল” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে কেমি বডনেস বলেছেন, “চাপের মুখে ভেঙে পড়ছেন ফারাজ।”
ফারাজ দাবি করেছেন, উপনির্বাচনের ব্যয় বহনের প্রস্তাব দিয়েছে তার দল রিফর্ম ইউকে। তবে বর্তমান নির্বাচন বিধি অনুযায়ী এমন প্রস্তাব আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।





