ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও এডমিট কার্ড পাননি ৯ শিক্ষার্থী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও এডমিট কার্ড পাননি ৯ শিক্ষার্থী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ - Surma Times | Sylhet News

ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও এডমিট কার্ড পাননি ৯ শিক্ষার্থী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ - Surma Times | Sylhet Newsশ্রীমঙ্গল, ২ জুলাই ২০২৬:শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল গার্লস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) পাননি। ফলে পরীক্ষা নিয়ে তাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপে ৮ জন নিয়মিত ও ১ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন।

জানা যায়, কলেজের মানবিক বিভাগের ৯ শিক্ষার্থী সবার মতো ফরম পূরণ করেন। পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগেও তারা বারবার কলেজে যোগাযোগ করেও এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারেননি। কলেজ কর্তৃপক্ষ ‘আজ-কাল’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন।

বুধবারও এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন তাদের কার্ড আসেনি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন— শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীলসহ অনিয়মিত সুমাইয়া আক্তার।

পরীক্ষার দিন সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া পৌঁছালে প্রথমে তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে অভিভাবক ও স্থানীয় ছাত্রনেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরীক্ষায় বসতে পেরেছেন। পরে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হলেও সময়ের অভাবে পুরোপুরি উত্তর লিখতে পারেননি।

তানিয়া আক্তার বলেন, “রমজান মাসে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছি। বারবার কলেজে গিয়েও এডমিট কার্ড পাইনি।”

শ্রাবন্তী শীল বলেন, “দেড় ঘণ্টা পর পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। মাত্র ২০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছে। আমরা শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত।”

দিপা কাহার বলেন, “এ ঘটনায় আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। দায় কে নেবে?”

কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে এ ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও ও শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article