ঢাকা, ১ জুলাই ২০২৬: ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা মাঠের অসাধারণ নৈপুণ্যের পাশাপাশি তাঁর স্পষ্টভাষী ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্যও স্মরণীয়। ২০১৮ সালে দেওয়া তাঁর কিছু মন্তব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে আবারও ফুটবল অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশিয়া বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রভাব ফুটবলের ঐতিহ্য ও আবেগকে বদলে দিতে পারে। বর্তমান বিশ্বকাপে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর সময় বিজ্ঞাপন প্রচারের ঘটনা তাঁর সেই আশঙ্কার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে অনেক ফুটবলপ্রেমী মনে করছেন।
ম্যারাডোনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচকে ২৫ মিনিট করে চারটি কোয়ার্টারে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে আরও বেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়। যদিও সে প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে বিরতির সময় বাণিজ্যিক ব্যবহার তাঁর সেই সতর্কবাণীকে নতুন করে সামনে এনেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক নিয়ে তীব্র সমালোচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাম ঘোষণার পরও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। মেক্সিকোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছিলেন, “মেক্সিকো এই আয়োজন পাওয়ার যোগ্য নয়। তারা যখনই জার্মানি বা ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়, তখনই তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়।”
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ফুটবল সংস্কৃতি নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন ম্যারাডোনা। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল নিয়ে প্রকৃত আবেগের ঘাটতি রয়েছে। আর কানাডা নিয়ে রসিকতা করে বলেছিলেন, “কানাডিয়ানরা বড়জোর ভালো স্কিয়ার হতে পারে।”
ম্যারাডোনার মৃত্যুর কয়েক বছর পরও তাঁর এসব মন্তব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের বিভিন্ন পরিবর্তন ও বাণিজ্যিক আয়োজনের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, কিংবদন্তির এই সতর্কবাণীগুলো আজও প্রাসঙ্গিক।





