সুরমা টাইমস ডেস্কঃ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ মাসে কয়েকজন উপদেষ্টা সরকারি কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা চিকিৎসা বিল নিয়েছেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন একাই বিদেশে চিকিৎসা বাবদ নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা, যা এই তালিকায় সর্বোচ্চ। এরপর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিয়েছেন ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা।
এছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা। বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ, বিশেষ সহকারী ড. এম আমিনুল ইসলাম ও খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারসহ আরও কয়েকজন বিভিন্ন অংকের চিকিৎসা ব্যয় নিয়েছেন সরকারি কোষাগার থেকে।
আইন অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও সেই সুবিধার আওতায় পড়েন। তবে আইনগত বৈধতা থাকলেও নৈতিকতা ও জনআস্থার প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমও চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, দেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাকে বিদেশে যেতে হয়েছে। তার দাবি, এটি কোনো বিলাস ভ্রমণ নয়, বরং চিকিৎসার প্রয়োজনেই সরকারের অনুমোদন নিয়ে তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও বলেন, জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে দেশে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় তিনি সরকারের অনুমতি নিয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই এত অল্প সময়ে বড় অংকের সরকারি ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনগত সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জনআস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।






