তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় প্রায় এক হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়দানকারী এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
বুধবার রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী পুরান লাউড়েরগড় মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম নাজমুল হাসান হিমেল (২৮)। সে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের ছাতারকোণা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তার সহযোগী সোহাগ আহমদকেও আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলে করে সীমান্ত এলাকা থেকে ফেরার সময় লাউড়েরগড় এলাকার লোকজন তাদের সন্দেহ করে আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে হিমেলের কাছে সাড়ে ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের দোকানের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে এবং পুলিশে খবর দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ
সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া বলেন, “হিমেল ভারত থেকে ইয়াবার চালান এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করত। আমরা এগিয়ে না গেলে জনতা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলত।”
ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ বলেন, “হিমেল জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। তার ভাই তোফায়েল আহমদ উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যুগ্ম সদস্যসচিব। ৫ আগস্টের পর সে মাদকবিরোধী সংগঠন গড়ে তোলে এবং এর আড়ালে নিজেই মাদক ব্যবসা চালাত। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করত।”
পুলিশের বক্তব্য
বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোখলেছুর রহমান বলেন, “হিমেলের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী সংগঠনের নামে মাদক কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আটকের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের পর অনেকে ‘যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য হুমকি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আরও জড়িতদের চিহ্নিত করবে বলে জানিয়েছে।





