সুরমা টাইমস ডেস্কঃ তেহরান-ওয়াশিংটন: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নথি ফাঁস হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা এই নথিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির অনুমতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির অঙ্গীকারসহ ১৪ দফা প্রস্তাব রয়েছে।
নথিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সিএনএন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এক সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এর কপি পেয়েছে। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে জড়িত অন্য সূত্রগুলোও নথির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছে।
খসড়া অনুসারে, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নথির উল্লেখযোগ্য দফাগুলো:
- উভয় পক্ষ একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
- ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য।
- যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।
- ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করবে।
- ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।
- জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রোববার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ ডিজিটালি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
তবে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নথিতে সুস্পষ্ট কোনো বিবরণ নেই। চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অনেকাংশে কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নথিটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে অনেক জটিলতা থাকতে পারে।





