
সুরমা টাইমস ডেস্কঃ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল প্রথাগত উৎসব-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মেধা অন্বেষণ ও সুস্থ চিন্তার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মান্যবর রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি আর্ট গ্যালারীতে আয়োজিত ২৪তম চারুকলা প্রদর্শনী-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই পাঁচ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি দূর করতে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ ধারার চিন্তার বিকাশ ঘটাতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। তাঁর মতে, শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে শুধু গান, নাচ বা আবৃত্তির মঞ্চে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রতিভা খোঁজার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি কেবল মঞ্চের পারফরম্যান্স নয়, এটি পুরো জীবনব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
তিনি তরুণদের প্রশংসা করে বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তরুণরাই রাস্তায় আলপনা ও গ্রাফিতির মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ, যন্ত্রণা এবং সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। তাঁর ভাষায়, যুব ও ছাত্রসমাজ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা চাইলে যেকোনো অপশক্তিকে পরাজিত করতে পারে।
অভিভাবকদের প্রতি বার্তা
অভিভাবকদের উদ্দেশে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, সন্তানদের ওপর ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শিশুদের গাইড করা অভিভাবকের দায়িত্ব হলেও তাদের নিজস্ব আগ্রহ ও প্রতিভাকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে পারে।
অনুষ্ঠানের পরিবেশ
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট জেলা কালচারাল অফিসার আল মামুন বিন সালেহ। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, যমুনা অয়েল কোম্পানির পরিচালক সালেহ আহনদ খসরু এবং কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল।
আলোচনাসভা শেষে শিশু ও সাধারণ—এই দুই বিভাগে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ ২ জন প্রতিভাবান শিল্পীকে ‘প্রদর্শনী শ্রেষ্ঠ/বিশেষ পুরস্কার’ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি বর্ষে একজন করে মোট ৮ জন নির্বাচিত শিল্পীর হাতে বিশেষ সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রদর্শনীর তথ্য
এই প্রদর্শনীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ৭৮ জন শিক্ষার্থীর আঁকা মোট ১১৩টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। জলরং, অ্যাক্রেলিক, প্যাস্টেল ও স্কেচসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তৈরি এসব কাজে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নান্দনিক চিন্তার বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখা গেছে। প্রদর্শনীটি আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।






