সুরমা টাইমস ডেস্কঃ পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় কোরবানির প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আর এই সময়টিতে বিশেষভাবে আলোচনায় থাকেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের দক্ষ কসাইরা। পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, নিখুঁতভাবে মাংস কাটা এবং হাড় আলাদা করার কাজে তাদের দক্ষতা ঢাকাবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের আস্থার প্রতীক। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও শতাধিক কসাই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছেন, আবার কেউ বিমানের টিকিট কেটে ঈদের ঠিক আগে পৌঁছাবেন।
প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরের কসাইরা রাজধানীমুখী হন। ঈদের তিন দিন তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি কোরবানির কাজ সম্পন্ন করেন। এই অল্প সময়েই তাদের সম্মিলিত আয় দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি, যা তাদের জন্য বছরের অন্যতম বড় আয়ের উৎস।
সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি জানান, এবারও তারা দলবদ্ধভাবে ঢাকায় যাচ্ছেন। ঈদের আগের দিন ১০ জনের একটি দল বিমানে করে ঢাকায় পৌঁছাবে, যার টিকিট ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকায় পৌঁছে তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, এই পেশা তাদের বংশগত। ছোটবেলা থেকেই পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শেখা দক্ষতা আজও তারা ধরে রেখেছেন।
অন্যদিকে, গোলাহাট এলাকার কসাই সুলতান জানান, ঈদের অন্তত এক মাস আগে থেকেই ঢাকার বিভিন্ন পরিবার তাদের বুকিং দিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় আত্মীয় থাকার কারণে তিনি ২১ মে তিন সদস্যের দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় পৌঁছেছেন। কাজের চুক্তি হয় সাধারণত হাজারে ২০০ টাকা হারে। অর্থাৎ এক লাখ টাকার গরু কোরবানি করলে কসাইদের আয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। তিনি যোগ করেন, আয় ভালো হওয়ায় সময় বাঁচাতে অনেকেই বিমানে যাতায়াত করছেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে এই যাত্রা শুধু পেশাগত নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আস্থার কারণে ঢাকাবাসীর কাছে সৈয়দপুরের কসাইরা এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।

