
লন্ডন, ১৮ আগস্ট: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং হয়রানি বন্ধ এবং যৌক্তিক বিমানভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি।
তিনি বলেছেন, সিলেট বিমানবন্দরকে প্রকৃত অর্থে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান সংস্থার ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং হয়রানি বন্ধ এবং যৌক্তিক বিমানভাড়া নিশ্চিত করতে হবে।
গত শনিবার খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য সাউথ শাখার অন্তর্গত লুটন শাখার আয়োজনে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি আবুল হাসান বলেন, ‘আমাকে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মানুষ নির্বাচিত করলেও দোয়া করেছেন পুরো দেশের মানুষ। তাই আমার দায়িত্ব শুধু নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আমি পুরো বাংলাদেশের এমপি হিসেবে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই।’
জাতীয় সংসদের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নীতিগত সংস্কারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের অবহেলিত সমস্যাগুলো নিরসনে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি এবং পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট না থাকার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুফতি আবুল হাসান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও সেখানে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থাকবে না, এটি কীভাবে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে পারে?’
সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের জন্য বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের নামে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ এবং যৌক্তিক বিমানভাড়া নির্ধারণের দাবি জানান। এ বিষয়ে সিলেটের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক ও আলোচনা করেছেন বলেও জানান তিনি।
দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অবদানের কথা উল্লেখ করে মুফতি আবুল হাসান বলেন, প্রবাসীদের অধিকার ও আইনি মর্যাদা রক্ষায় তিনি কাজ করে যাবেন।
বিদেশে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দাফন-কাফনের সুব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে তাঁর নেওয়া বিগত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে প্রবাসী পরিবারগুলো যেন দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ও স্থায়ী আইনি সহযোগিতা পায়, সে লক্ষ্যে কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার জোর দাবি জানান তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে মুফতি আবুল হাসান বলেন, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কারণে দেশের ভূখণ্ড ও সীমান্তের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সংকট সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় টেকসই বাঁধ নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
লুটন শাখার সভাপতি মুফতি মাসরুর আহমদ বুরহানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য সাউথ শাখার সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য সাউথ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল কারীম মামরোখানী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান জাকির এবং লুটন ব্যারিপার্ক জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হাফিজ ফিরদাউস।
সমাবেশে খেলাফত মজলিস লুটন শাখার সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুমান আহমদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত এমপি মুফতি আবুল হাসানের কাছে বিভিন্ন জনমুখী প্রত্যাশা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এসব প্রস্তাবের মধ্যে জাতীয় সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, কওমি মাদরাসার সনদের কার্যকর মূল্যায়ন, খতমে নবুওয়াতের আকীদার সুরক্ষা, ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা, যুবসমাজকে মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রকৃত অর্থে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ফার্লি-হিল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ তৈয়ব আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম লুটন শাখার সেক্রেটারি ও জুহরী একাডেমির ইমাম ও খতিব মাওলানা নাবিল আহমদ, মসজিদ বিলালের ইমাম মাওলানা হাফিজ ফারহাত, মাদীনা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা শাহিদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল মালিক, বিলাল আহমদ, মাওলানা শাহজাহান, মিফতাউর রহমান, জাহেদ আহমদ, আহমদ হুসাইন, হাফিজ আলম, মাওলানা নাজির আহমদ, মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, শাহিদুল ইসলামসহ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাতের মাধ্যমে সুধী সমাবেশের সমাপ্তি হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি আবুল হাসান এমপি।







