সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন কারাগারে, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ আদালতে

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন কারাগারে, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ আদালতে - Surma Times | Sylhet News

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন কারাগারে, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ আদালতে - Surma Times | Sylhet Newsঢাকা, ৯ আগস্ট: চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিন দশক আগে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় রোববার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ডনকে। প্রথমে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ, পরে হস্তান্তর করা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করার পর সিআইডির একটি দল তাকে নিয়ে যায়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিনও নিশ্চিত করেন, সালমান শাহ হত্যা মামলায় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, ডনসহ এজাহারনামীয় অন্য আসামি এবং অজ্ঞাতনামারা পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির জামিন হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনকি তিনি চিরতরে পলাতক হতে পারেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে কাঠগড়ায় তোলা হয় ডনকে। তখন তাকে দেখা যায় বেশ রাগান্বিত অবস্থায়। এর পাঁচ মিনিট পর এজলাসে আসেন বিচারক। শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত আছেন কি না, জানতে চান তিনি। তবে শুনানিতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা। মামলায় ডন চার নম্বর আসামি এবং তিনি আজ দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ইমিগ্রেশন থেকেই তাকে আটক করা হয় বলে জানান তিনি।

মামলার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবার তার সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় গিয়েছিলেন। তবে তার স্ত্রী সামিরা হক তাদের ঢুকতে দেননি। রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজার তাদের জানান, সালমান শাহর কিছু একটা হয়েছে। এরপর পরিবার গিয়ে দেখতে পায়, তার লাশ সিলিংয়ের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা করে পরিবার, যেখানে ডন চার নম্বর আসামি।

পিপি আরও জানান, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল, যে ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার আসামি রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ স্বীকারোক্তি দেন, সামিরার সঙ্গে ডনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে সালমান শাহকে হত্যা করেন, প্রথমে তাকে অচেতন করে পরে আত্মহত্যা বলে দেখানোর জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন বলেও আদালতে যুক্তি দেন পিপি। সব শুনে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে বিষয়টি জানানোর পরই তাকে হেফাজতে নেয় সিআইডি।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কার্যকর কোনো তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ ছিল পরিবারের। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। যদিও পুলিশের ভাষ্য ছিল, অপমৃত্যুর মামলার তদন্তে যদি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মেলে, তাহলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

অবশেষে মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এর ভিত্তিতে গত বছরের অক্টোবরে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য রয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি, হয়ে উঠেছিলেন ঢালিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে বরাবরই দাবি করে এসেছে তার পরিবার।

প্রায় তিন দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা একটি রহস্যের জট এখন কতটা খুলবে, তা নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ওপর। ডনের গ্রেপ্তার এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য মামলার তদন্তে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, আর দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনও তাকিয়ে আছে এই দীর্ঘদিনের রহস্যের প্রকৃত উন্মোচনের দিকে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article