সিলেট, ১০ জুলাই: সিলেটের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশে একটি বিরল ঘটনা। যদি সিলেটের মতো বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই সম্প্রীতি থাকতো তাহলে আজ সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের কথা শোনা যেত না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সিলেটবাসীর প্রতি আমার একটাই অনুরোধ, কে কোন দল করেন সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সিলেট বিভাগ দিয়ে আমরা প্রমাণ করতে চাই, দেশের অন্যান্য অঞ্চল যেন সিলেটিদের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে এক হয়ে বাংলাদেশ গড়তে কাজ করেন।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের দেশে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে কাজ করছে। আমাদেরকে চোখ-কান খোলা রেখে সজাগ থাকতে হবে, যেন তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সত্যিকার অর্থে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
নিজের মেয়র থাকাকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থন আমি কখনো ভুলব না। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ সিলেটের সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে প্রতিনিধিত্ব, সুনামগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাসহ যেসব বিষয় উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করব। প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন চন্দ্র ঘোষের পরিচালনায় সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
সম্মেলনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন দীপু, সহ-সভাপতি ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সহ-সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য্য শিবুসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন দীপক কুমার দাস।
সম্মেলনে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ মিছিল সহকারে যোগদান করেন এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন।




