কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ - Surma Times | Sylhet News

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যা, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ - Surma Times | Sylhet Newsমৌলভীবাজার, ৯ জুলাই – গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলাই নদীর মখাবিল এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, একটি সড়কের কালভার্ট ধসে পড়েছে এবং কৃষকদের রোপিত আউশ ধান ও শাকসবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা যায়, অব্যাহত বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের নদী, ছড়া ও খাল-বিল উপচে পানি বেরিয়ে আসে। উজানের প্রবল স্রোতে বুধবার রাতে ধলাই নদীর ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয়। এর ফলে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেঁতইগাঁও ও ভানুবিল ঘোরামারা গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় বিএসএফের বাধার কারণে মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে নদী পূর্ণ হয়ে গেলেই মখাবিল এলাকায় বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই বন্যার পানি নিম্নাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যার ফলে শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, বন্যার পানির স্রোতে তাদের রোপিত আউশ ধান ও সবজি খেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জের মাধবপুর হয়ে শ্রীমঙ্গলে যাতায়াতের সড়কে নুরজাহান চা-বাগানের গোয়াবাড়ি নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এ ছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে।
শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার, বুধবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে ঢল নেমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো বন্যার পানি থাকায় পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিলে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ভারতীয় বিএসএফের বাধার কারণে ওই অংশে বাঁধ মেরামতের কাজ করানো সম্ভব হয়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনের কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি জানান, বন্যাপ্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সীমান্তের ওপারে বিএসএফের বাধার কারণে বাঁধ মেরামত না হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি কমে আসায় পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কী রূপ নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article