হবিগঞ্জ, ৪ জুলাই -হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার খোজারগাঁও গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোজারগাঁও গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও নারী-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে একই গোষ্ঠীর কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি এক নারীর পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জেরে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দুল হক ও তার ভাগ্নে মোস্তাকিমের সঙ্গে আব্দুল্লাহ ও তার সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও মাগরিবের নামাজের সময় উভয় পক্ষ ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ। তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আহত হন আরও অন্তত পাঁচজন।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একই পরিবারের একাধিক নারী-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল, যা সামাজিকভাবে উত্তেজনা ও বিভক্তি তৈরি করে। ধারাবাহিক এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষের রূপ নেয় বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তিনি জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পারিবারিক বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে তা নিয়ে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।





