ঢাকা, ৩ জুলাই – ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন এলাকায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে আদাবরে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ড। গত সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি ম্যাচ দেখা শেষে সমর্থকদের আনন্দ মিছিল বের হয়। সেই মিছিল ঘিরেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যার জেরে গত ১ জুলাই রাতে নবোদয় হাউজিং সোসাইটিতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। এই সালিশ চলাকালেই ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল বাশার।
এই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে রিপনসহ মোট চারজনকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক শত্রুতা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে নয়, বরং তাৎক্ষণিক ক্ষোভ থেকেই এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার খুন হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক শত্রুতা বা আধিপত্য বিস্তারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। শফিকুল ইসলাম বলেন, “এখন থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রাতে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার জায়গায় নজরদারি বাড়াবে পুলিশ।”
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক দর্শক-সমর্থক একত্রিত হন। এমন পরিস্থিতিতে খেলা শেষে উচ্ছ্বাস কিংবা উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। আদাবরের এই হত্যাকাণ্ড সেই ঝুঁকিরই একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
পুলিশের এই পদক্ষেপ আসন্ন দিনগুলোতে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদাবরের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে ডিবি পুলিশ, যা রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা প্রশমিত করলেও স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।





