মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ঠেকাল বিজিবি, ১০ জনকে ওপারে ফেরত

মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ঠেকাল বিজিবি, ১০ জনকে ওপারে ফেরত - Surma Times | Sylhet News

মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ঠেকাল বিজিবি, ১০ জনকে ওপারে ফেরত - Surma Times | Sylhet Newsমৌলভীবাজার, ৩ জুলাই: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে অন্য একটি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লাঠিটিলা বিওপির কচুরগুল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দুজন পুরুষ, সাতজন নারী ও একটি শিশু ছিল। পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রিয়াদুল মোল্লা (৫৫), সাব্বির শেখ (১৯), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা খাতুন (৮), সুবা (৩২), দিলরুবা (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)।

তাদের দাবি, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে জীবিকার সন্ধানে ভারতের গুজরাটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন করে। ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নারীরা কান্নাকাটি করে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের পুশইন ঠেকাল বিজিবি, ১০ জনকে ওপারে ফেরত - Surma Times | Sylhet News৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১০ জনকে আটক করা হয় এবং পরে রাতে অন্য সীমান্ত দিয়ে তাদের ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোরে বিএসএফ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি পুশইনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু লোক বিএসএফকে পুশইনে সহযোগিতা করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে লাঠিটিলা বিওপিতে গেলে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের জুড়ী প্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, তথ্য চাইতে গেলে তাকে হেনস্তা করা হয় এবং তার ছোট ভাই তাওহিদ আলম ও বন্ধু সাব্বির রহমানকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুক্রবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিজিবি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article