সুরমা টাইমস ডেস্কঃ তুরাগ নদীতে নৌকাযোগে মিছিলকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বলছে, হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের দিন নৌকায় করে তুরাগ নদীতে মিছিল বের করেন দলটির ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল আশুলিয়া বাজার ঘাটে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের ধাওয়া শুরু হয়।
ধাওয়া খেয়ে মিছিলকারীরা দ্রুত নৌকায় উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাড়াহুড়োর মধ্যে নৌকার নোঙর তুলতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই নদীতে ঝাঁপ দেন। অধিকাংশই সাঁতরে উঠতে পারলেও সুমন (১৭) ও আরিফুল ইসলাম রাকিব (২০) পানিতে তলিয়ে যান।
পরবর্তীতে ২৪ ও ২৫ জুন আমিনবাজার ও আশুলিয়া এলাকায় নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।
নিহতদের পরিবার জানায়, তারা প্রথমে বিষয়টি জানতেন না। পরে বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারেন, মিছিল চলাকালে ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ সদর দপ্তর তা নাকচ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক ইউনিট তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাতেই দুই যুবকের মৃত্যুর সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।





