মোঃ সামছুল ইসলাম,বড়লেখা (মৌলভীবাজার) থেকে ফিরেঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে টানা কয়েকদিন ধরে পুশইনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে প্রতিবারই বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হচ্ছে এসব চেষ্টা। ফলে সীমান্তজুড়ে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ।
শুক্রবার ও শনিবার দিনভর বড়লেখার বোবারথল সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবি মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। একাধিক দফায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই ঢুকাতে পারেনি বিএসএফ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বোবারথল ষাটঘরি ও আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে শূন্যরেখার ওপারে দলবদ্ধভাবে লোকজন জড়ো করছে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সীমান্ত টহল জোরদার করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ায়।
শুক্রবার দুপুরে পুশইনের চেষ্টা হলে বিজিবি হ্যান্ডমাইকে সতর্কবার্তা দেয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চললেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
শনিবারও একই চিত্র দেখা গেছে। আবারও পুশইনের চেষ্টা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণ সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করে।
জানা যায়, বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধীন বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার প্রায় ১১৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশই দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চল। বিশেষ করে বোবারথল, পাল্লাথল, কুমারসাইল ও বড়াইল সীমান্ত এলাকা ঘন জঙ্গলে ঘেরা হওয়ায় এসব পথকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত এক বছরে এসব এলাকা দিয়ে অন্তত দেড় হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাকে পুশইনের চেষ্টা হয়েছে।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিএসএফ একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রতিটি চেষ্টা প্রতিহত করছে। স্থানীয় জনসাধারণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্তের এই টানটান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।






