
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত শিক্ষকের বেত্রাঘাতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকের আঘাতে ছাত্রীর হাতে পরা অ্যাপল ওয়াচের গ্লাস ভেঙে যায়। ঘটনায় ছাত্রীর বাবা শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী কলাবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির জানান, তাঁর মেয়ে নাইদা ইয়াসমিন সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সম্প্রতি গণিত ক্লাস চলাকালীন এক সহপাঠী নাইদার খাতা দেখে অঙ্ক করার অভিযোগে শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জসিম তাকে দায়ী করেন। পরে কাঠের স্কেল দিয়ে ছাত্রীর হাতে ও বাহুতে একাধিকবার আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতায় ছাত্রীর হাতে পরা সৌদি আরব থেকে আনা অ্যাপল ওয়াচের গ্লাস ভেঙে যায়।
আব্দুল কাদির আরও জানান, আঘাতের কারণে তাঁর মেয়ে কয়েকদিন শারীরিক ব্যথায় ভুগেছে এবং মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাকে চিকিৎসা ও ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হয়েছে। ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রধান শিক্ষক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। বিদ্যালয় পুনরায় খোলার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক কেউই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কিংবা দুঃখ প্রকাশ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত আবেদনে আব্দুল কাদির আরও উল্লেখ করেন, প্রধান শিক্ষকের অবহেলা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব এবং শিক্ষার মানের অবনতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষকের বক্তব্য
অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জসিম বলেন, “বিষয়টি ওই রকম সিরিয়াস কিছু নয়। ক্লাসে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের শাসন করতে হয়।” ইউএনও বরাবর অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তিনি দুই সহকর্মীকে নিয়ে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে ভাঙা ঘড়ির ক্ষতিপূরণসহ ওষুধের খরচ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান।
ইউএনও’র অবস্থান
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।





