ইবনে সিনা হাসপাতাল বয়কট ঘোষণা সাংবাদিক ফয়সল আলমের! চিকিৎসকের ‘অমানবিক’ আচরণে ক্ষোভ

ইবনে সিনা হাসপাতাল বয়কট ঘোষণা সাংবাদিক ফয়সল আলমের! চিকিৎসকের ‘অমানবিক’ আচরণে ক্ষোভ - Surma Times | Sylhet News

ইবনে সিনা হাসপাতাল বয়কট ঘোষণা সাংবাদিক ফয়সল আলমের! চিকিৎসকের ‘অমানবিক’ আচরণে ক্ষোভ - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ নিজে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকের দুর্ব্যবহার ও অপ্রত্যাশিত সেবার অভিযোগ তুলে ইবনে সিনা হাসপাতালের সেবা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের প্রবীণ সাংবাদিক ফয়সল আলম। তিনি দৈনিক শুভ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এ ঘোষণা দেন ফয়সল আলম। তিনি লিখেছেন, গত ১৭ মে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আওলাদ হোসেনের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রথমে প্রেসক্রিপশন ও পাঁচ হাজার টাকার টেস্ট করানো হয়। ওষুধ খাওয়ার পর হাত-পা কাঁপা, হাঁটতে সমস্যাসহ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

রিপোর্ট নিয়ে ফিরে গেলে চেম্বারে ঢুকতেই ডাক্তার তাঁকে বসতে দেননি। ফয়সল আলম লিখেছেন, “উনি বলেন, আপনি বসবেন না। উনাকে (অন্য রোগীকে) বসতে দেন। আপনি এমনিতেই দেরি করে আসছেন।” তার কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে ডাক্তার জানান, আবার নতুন টিকেট কেটে আসতে হবে। চারজন মহিলার সামনে এমন আচরণের পর তিনি কাগজপত্র ফেরত নিয়ে বেরিয়ে আসেন।

পরে কাস্টমার কেয়ারের এক কর্মকর্তা তাঁকে নিয়ে যান এবং অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানের (আল হামরার এমডি) সঙ্গে কথা বলান। কিন্তু সেখানেও সন্তোষজনক সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেন ফয়সল আলম। তিনি লিখেছেন, “উনি তেমন আগ্রহ না দেখিয়ে ডাক্তারের পক্ষেই অবস্থান নেন।”

**‘আজ থেকে ইবনে সিনার সেবা বর্জন করলাম’**

স্ট্যাটাসে ফয়সল আলম আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মানসিকভাবে আহত হয়ে তিনি হাসপাতালের সেবা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবনে সিনার কর্পোরেট চুক্তি থাকলেও তিনি নিজের কার্ড প্রত্যাহার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানকেও চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, “যে প্রতিষ্ঠানে অমানবিক মানুষদের অবস্থান, তাদের সঙ্গে মানবিক মানুষদের প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্পোরেট চুক্তি থাকতে পারে না।”

**সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা**

ফয়সল আলমের এই পোস্ট প্রকাশের পর সাংবাদিক মহলে এবং ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণে আরও দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

এ বিষয়ে ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা খাতে রোগী-চিকিৎসক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ রোগীরা আশা করছেন, এমন অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে হাসপাতালগুলো আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article