সুরমা টাইমস ডেস্কঃ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক বিওয়াইডি (BYD) এক অভাবনীয় কীর্তি গড়েছে। জার্মানির সেন্টার অব অটোমোটিভ ম্যানেজমেন্ট (CAM) প্রকাশিত ‘অটোমোটিভ ইনোভেশনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো কোনো চীনা অটোমোবাইল কোম্পানি শীর্ষস্থান দখল করেছে।
প্রতিবেদনের ২২তম সংস্করণে CAM তাদের বিখ্যাত ‘এম.ও.বি.আইএল’ পদ্ধতিতে ৩৬টি বৈশ্বিক অটোমোটিভ গ্রুপের ৮৬৭টির বেশি উদ্ভাবন মূল্যায়ন করেছে। বিওয়াইডি এতে ১৫৭.২ ইনডেক্স পয়েন্ট পেয়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। আগের চ্যাম্পিয়ন ভক্সওয়াগেন গ্রুপকে (১৪৩.১ পয়েন্ট) এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপকে (১৩৪.২ পয়েন্ট) অনেক দূরে রেখে তারা এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করলো।
শুধু সামগ্রিক উদ্ভাবনের শীর্ষে নয়, বিওয়াইডি ‘মোস্ট ইনোভেশন ভলিউম ব্র্যান্ড ২০২৬’ হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ১০৫ পয়েন্টের বেশি স্কোর নিয়ে তারা রেনল্ট ও টয়োটার মতো প্রতিষ্ঠিত জায়ান্টদেরও হারিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাটারি প্রযুক্তি, ইলেকট্রিফাইড পাওয়ারট্রেন, ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেম এবং একাধিক ‘ওয়ার্ল্ড-ফার্স্ট’ উদ্ভাবনই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিওয়াইডির ব্লেড ব্যাটারি, ডিএম-আই সুপার হাইব্রিড সিস্টেম, অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) এবং পরবর্তী প্রজন্মের মোবিলিটি সমাধানগুলো ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে।
এই অর্জন সাসটেইনেবল মোবিলিটির দিকে বৈশ্বিক পরিবর্তনের মাঝে বিওয়াইডির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে কোম্পানিটি দ্রুত এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি দুটি বড় ডেলিভারি ইভেন্টের মাধ্যমে বিওয়াইডি বাংলাদেশ ৯০টি নিউ এনার্জি ভেহিকেল সরাসরি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এটি দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের প্রসারে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাফল্য শুধু বিওয়াইডির জন্য নয়, পুরো চীনা অটো ইন্ডাস্ট্রির জন্যও একটি মাইলফলক। যারা এখনো ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে উদ্ভাবনের দৌড়ে চীনা কোম্পানিগুলো এখন আর পিছিয়ে নেই, বরং সামনে চলে এসেছে।
বাংলাদেশের বাজারে বিওয়াইডির এই উত্থান অব্যাহত থাকলে সাশ্রয়ী দামে উন্নত প্রযুক্তির ইভি পাওয়া আরও সহজ হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।





