ট্রাম্পের কড়া নিয়মে বড় শিথিলতা! গ্রিনকার্ড সাক্ষাৎকারে আর দেশে ফিরতে হবে না বাংলাদেশিদের

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় থাকা আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে লক্ষাধিক বাংলাদেশিসহ বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।
শুক্রবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশসহ যেসব দেশে ভিসা কার্যক্রম জটিল বা আংশিক স্থগিত রয়েছে, সেসব দেশের আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসেই গ্রিনকার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন।
আগের নির্দেশনায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল
গত ২২ মে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের জন্য অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এতে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশে ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
নতুন সিদ্ধান্তে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। যারা দেশে ফিরলে ঝুঁকিতে পড়বেন বলে যথাযথ প্রমাণ দিতে পারবেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রেই সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়া হবে।
সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন যারা
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, কর্মসংস্থানভিত্তিক ও মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত আবেদনকারীদের জন্য এ সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে স্বস্তিদায়ক। তারা আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
তবে সতর্কতাও রয়েছে। যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা (ফুড স্ট্যাম্প, মেডিকেয়ার ইত্যাদি) নির্ভরশীল হতে পারেন বলে মনে করা হবে, তাদের আবেদন বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নীতির কারণে দক্ষ জনশক্তি হারানোর আশঙ্কায় প্রশাসন এই নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে হাজারো বাংলাদেশির গ্রিনকার্ড আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক স্পন্সরশিপ ও বিবাহভিত্তিক আবেদনকারীরা এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ ৮২ হাজার মানুষ গ্রিনকার্ড পেয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
নতুন এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

