বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সদ্যবিবাহিত ছেলের মৃত্যুর শোকে বাবার মৃত্যু: এক সন্ধ্যায় নিঃস্ব পরিবার

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সদ্যবিবাহিত ছেলের মৃত্যুর শোকে বাবার মৃত্যু: এক সন্ধ্যায় নিঃস্ব পরিবার - Surma Times | Sylhet News

জকিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছেলে, শোকে বাবার মৃত্যু - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৩১ আগস্ট: সদ্যবিবাহিত ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে বাবাও মারা গেছেন। একই সন্ধ্যায় বাবা-ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুক আহমেদ (৩৮) শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। কর্মস্থলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়। ছেলের এমন মৃত্যুর সংবাদ শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনিও মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মাসুকের বিয়ে হয়েছিল সম্প্রতি। নতুন সংসার নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। স্ত্রীকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাননি। তাঁর হাতে বিয়ের মেহেদির দাগ এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি।

ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে পারেননি আব্দুল লতিফ। সদ্যবিবাহিত ছেলের মৃত্যু ছিল তাঁর কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। একই ঘটনায় বাবাকেও হারাতে হয়েছে স্বজনদের। বাড়িতে নেমে এসেছে নীরবতা।

স্থানীয় লোকজন ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবার মৃত্যু পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে বলে তাঁদের ভাষ্য। খবর ছড়িয়ে পড়লে খিলগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে বাড়িতে ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক সেখানে যান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে বাবাও মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদন বিবেচনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

একই সন্ধ্যায় বাবা ও ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকে স্তব্ধ।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article