সুরমা টাইমস ডেস্কঃ : কোতোয়ালি থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করেছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এদিকে ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল দায়ী পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঈদের আগে সিওবাজার এলাকায় এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হলে পরিবার থানায় জিডি করে। গত ৩ জুন সন্ধ্যায় ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। যুগলের পরিবারের অনুরোধে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ কয়েকজন থানায় যান।
থানায় গিয়ে রাকিব দেখতে পান, এক পুলিশ সদস্য প্রেমিক যুগলকে মারধর করছে। এতে আপত্তি জানাতে গেলে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হয়ে রাইফেল দিয়ে মারধর করে। এতে তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।
আহত রাকিব পরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি নিজের পরিচয় দিয়েছি। বলেছি আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তারপরও ওসি ও এসআই আমাকে রাইফেল দিয়ে মেরেছে। আমার ফোন কেড়ে নিয়েছে। পুলিশের চরিত্র এখনো ফ্যাসিবাদী রয়ে গেছে।”
পুলিশের ব্যবস্থা
ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। তারা হলেন- কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, এসআই মাসুদ রানা, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন ও বাসুদেব।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি
রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জীম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। পুলিশের পোশাক বদলালেও চরিত্র বদলায়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় রংপুরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।






