খলনায়ক ডনের সেই অন্তরঙ্গ ছবির নেপথ্যের ঘটনা

খলনায়ক ডনের সেই অন্তরঙ্গ ছবির নেপথ্যের ঘটনা - Surma Times | Sylhet News

ডনের সেই অন্তরঙ্গ ছবির নেপথ্যের ঘটনা - Surma Times | Sylhet Newsঢাকা, ১১ আগস্ট: কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ডনের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ ছবি। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, ছবিতে থাকা নারী সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা। তবে ছবিটির সত্যতা ও পরিচয় নিয়ে সে সময় ভিন্ন বক্তব্য সামনে আসে।

ছবিটি নিয়ে সে সময় রাইজিংবিডির এই প্রতিবেদক সামিরা এবং সালমান শাহর বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সালমান শাহর মৃত্যুর পর মোস্তাক ওয়াইজকে বিয়ে করেন সামিরা। কয়েক বছর আগে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে। মোস্তাক ওয়াইজ তখন দাবি করেছিলেন, ডনের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবিতে থাকা নারী সামিরা নন, তিনি অভিনেত্রী সাবরিনা।

মোস্তাক ওয়াইজ জানিয়েছিলেন, ছবিটির পেছনের ঘটনা তিনি সামিরার কাছ থেকেই জেনেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে ছবিটি তোলা হয়েছিল।

মোস্তাক ওয়াইজ বলেন, “সামিরা আমাকে বলেছে এ ছবির পেছনের কাহিনি। এটা ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন তোলা। ডনের সঙ্গে যে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে, সে সামিরা নয়। ছবির মেয়ে নায়িকা সাবরিনা।”

তিনি আরও বলেন, “‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার মূল নায়িকা ছিলেন শাবনাজ, নায়ক সালমান শাহ। সাবরিনা ছিল সেই ছবির পার্শ্বনায়িকা। ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করে ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন সালমান শাহ। এই ছবি নিয়ে সালমান শাহ বিভিন্ন সময় ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করেছেন।”

ডনের সঙ্গে সামিরার ছবি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন মোস্তাক ওয়াইজ। তাঁর দাবি, ডনের সঙ্গে সামিরার একটি ছবি রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্য ছবিগুলো ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এছাড়া আরো একটি ছবি রয়েছে, সেখানে সামিরা ম্যাগাজিন দেখছিল, সালমান ছবি তুলছিল। তখন ডন হাত বাড়িয়ে দেয় ছবি তোলার জন্য। সে সময়ে ডনের সঙ্গে সামিরার একটি ছবি আছে। এছাড়া ডনের সঙ্গে সামিরার যে ছবিগুলো আপনারা দেখছেন বা দেখেন, সব ফটোশপের কারসাজি। সেগুলো ফটোশপের সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে।”

মোস্তাক ওয়াইজ যখন এসব বক্তব্য দেন, তখন সামিরা ছিলেন তাঁর স্ত্রী। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডনের সঙ্গে তাঁর ছবি ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছিলেন সামিরা। তিনি বলেছিলেন, তাঁর একটি ছবি দেখিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে এবং বিষয়টি না জেনে সালমান শাহর ভক্তরা তাঁকে ভুল বুঝছেন ও অপবাদ দিচ্ছেন।

সামিরা বলেছিলেন, “আমার একটি ছবি দেখিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। ওর ভক্তরা না জেনে আমাকে ভুল বুঝছেন, অপবাদ দিচ্ছেন। তারা আসলে ইমনের ভালোবাসার মানুষকেই ছোট করছেন। ডন আমার ছোট ভাইয়ের মতো। সে প্রতি ঈদে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করত। তার সঙ্গে জড়িয়ে যে নোংরা কথা ছড়ানো হচ্ছে শুনে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছি।”

ছবিটির নেপথ্যের ঘটনাও ব্যাখ্যা করেছিলেন সামিরা। তাঁর ভাষ্য, ছবিটি ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে তোলা। সেখানে ডনের সঙ্গে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি নন, বরং সিনেমাটির পার্শ্বনায়িকা সাবরিনা।

সামিরা বলেছিলেন, “যে ছবিটি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটা ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিং চলাকালে তোলা। ডনের সঙ্গে যে মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে, সেটা আমি না। ছবিটির মেয়ে নায়িকা সাবরিনা। ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার মূল নায়িকা ছিলেন শাবনাজ। নায়ক সালমান শাহ। সাবরিনা ছিল সেই সিনেমার পার্শ্বনায়িকা।”

মোস্তাক ওয়াইজের বক্তব্যের সঙ্গে সামিরার বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করেই ঘরের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন সালমান শাহ। ওই সময় সালমান শাহর পায়ের নিচে থাকা টুলটি তিনি ধরে রেখেছিলেন।

সামিরা বলেন, “কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি এই ছবি আমার জীবনে এমন দুঃস্বপ্ন নিয়ে হাজির হবে। আমরা দুজনে মিলে দুষ্টুমি করে ছবিটি তুলেছিলাম। ইমন প্রাণশক্তিতে ভরপুর ছিল। সে সেটে সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কথা সবাই জানে। এই ছবিটি তারই উদাহরণ।”

ডনের সঙ্গে নিজের ছবির প্রসঙ্গেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন সামিরা। তিনি বলেন, “এই ছবি নিয়ে ইমন পরে বিভিন্ন সময় ডনের সঙ্গে দুষ্টুমি করেছে। এছাড়া আরো একটি ছবি রয়েছে, সেখানে আমি ম্যাগাজিন দেখছিলাম, ইমন ছবি তুলছিল। তখন ডন হাত বাড়িয়ে দেয় ছবি তোলার জন্য। সে সময়ের একটি ছবি আছে। এর বাইরে ডনের সঙ্গে আমার যে ছবিগুলো আপনারা দেখছেন বা দেখেন, সব ফটোশপের কারসাজি। সেগুলো ফটোশপের সাহায্য নিয়ে করা হয়েছে।”

তবে সালমান শাহ ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে চাননি সামিরা। তিনি বলেছিলেন, “ইমনকে নিয়ে বলতে হলে অনেক বিষয়ে কথা বলতে হবে। আমি ইমন ও তার পরিবার নিয়ে নেতিবাচক কোনো কথা বলতে চাই না।”

সামিরা আরও জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, “বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার ডিবির সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন যেভাবে চেয়েছে, আমি সাহায্য করেছি। তারা এসব বিষয়ে আমাকে বিভিন্ন সময় জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন। আমি সত্য কথাটাই সব সময় বলেছি।”

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হয়েছিল সালমান শাহর। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। ক্যারিয়ারের সাফল্যের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন এই জনপ্রিয় নায়ক।

সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্যের জট আজও পুরোপুরি খোলেনি। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবরই তাঁকে হত্যার দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় সন্দেহের আঙুল উঠেছে তাঁর স্ত্রী সামিরার দিকেও। তবে ডনের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবির বিষয়ে সামিরা ও তাঁর তৎকালীন স্বামী মোস্তাক ওয়াইজ দুজনেরই বক্তব্য ছিল, আলোচিত ছবিতে থাকা নারী সামিরা নন, তিনি অভিনেত্রী সাবরিনা।

১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট ভালোবেসে ঘর বাঁধেন সালমান শাহ ও সামিরা। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই দাম্পত্য জীবন পরিণত হয় গভীর শোকে। সালমান শাহর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীকে ঘিরে নানা আলোচনা ও অভিযোগ তৈরি হয়, যার রেশ পরবর্তী সময়েও থেকে যায়। ভাইরাল সেই ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও সেই দীর্ঘ আলোচনারই একটি অংশ হয়ে আছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article