সিলেট, ৯ আগস্ট: চার দফা দাবি আদায়ে সিলেটে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। একই সঙ্গে দাবি পূরণে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সিলেটের ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা একত্র হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রবিবার (০৯ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান এলাকা থেকে চা শ্রমিকদের মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক আম্বরখানা, চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজার হয়ে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিকরা তাদের চার দফা দাবি তুলে ধরেন এবং দাবি আদায়ে তাদের অবস্থান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যমান মজুরিতে জীবনধারণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালাতে গিয়ে চা শ্রমিকদের নানা সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, তাদের সার্বিক দাবি নিয়ে দুই দিন আগে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় দাবিগুলো নিয়ে ১৫ দিনের সময় নেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সিলেটের ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা একত্র হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
সমাবেশ শেষে চা শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে তাদের চার দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দ্রুতই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, চা শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। এই নির্বাচন ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করবে বলে জানান তিনি।
চা শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, চা জনগোষ্ঠীর জন্য ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিবিএ নির্বাচন আয়োজন।
দাবিগুলো আদায়ে চা শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ দিনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না হলে ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকদের পরবর্তী কর্মসূচি পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় আনতে পারে।






