সিলেটে প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত-এর ৭২তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান

দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ বলেছেন, চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত’র মৃত্যু হয়েছে দৈহিক ভাবে। কিন্তু তিনি তার সৃজনশীল কর্মগুণে চিরঅমর হয়ে আছেন সবার মন-প্রাণে। চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত নেই তবে তাঁর শিল্পকম’র মাধ্যর্মে তিনি বেঁচে থাকবেন। সিলেটের চারুকলার জগতে অরবিন্দ দাসগুপ্ত এক যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন। তিনি যে আলোকরস্মি জ¦ালিয়ে গেছেন তার ধারাবাহিকতা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিয়ে শিল্পকে মর্যাদা দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি (১২ ফেব্রæয়ারি) রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেটে চারুকলার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত-এর ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট নগরের ‘পেন্সিল আর্ট স্কুল’-এর উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার শেষ আয়োজন আলোচনাসভায় মূল আলোচক হিসেবে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত’র আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তার চিত্রকর্ম সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত তাঁর সৃষ্টিশীল শিল্পকর্মে বেঁচে থাকবেন অনাদিকাল।
স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত আজীবন থাকবেন সবার হৃদয়পাড়ায়। তিনি বলে, শিল্পীদের মৃত্যু হয় না। তারা দেশ ও জাতিকে আলো উজার করে দেবার জন্য জন্ম নেন। এসব ক্ষণজন্মাদের স্মরণ করতে হবে সবাই মিলে।
অনুষ্ঠানের সকল আলোচকরা তাদের বক্তব্যে সিলেটে চারুকলার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্তর স্মরণে একটি বিশেষ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করার মতামত ব্যক্ত করেন। এছাড়া তারা ‘চিত্রশিল্পী অরবিন্দ মেলা’ এবং তার চিত্রপট সংরক্ষণ করার পরামর্শও দেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত’র পরিবারের দিকে তাকানোর জন্য সরকার ও বিত্তবানদের কাছে আহবান জানান। চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত’র পরিবার চরম অর্থ সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত’র পরিবার কষ্ট-দুঃখে থাকবে তা মেনে নেয়া যায় না।
স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লেখক, কবি ও ছড়াকার তুষার কর, লিডিং ইউনির্ভাসিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ দীন, প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্তর সহধর্মিণী বিজয়া দাশগুপ্ত, কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অসীম সিকদার, শিক্ষক ও সাংবাদিক সঞ্জয় নাথ সঞ্জু, সঙ্গীত শিল্পী সুজিত শ্যাম জন, দৈনিক উত্তরপূর্ব’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সজল ঘোষ, সঙ্গীত শিল্পী অনিমেষ বিজয় চৌধুরী রাজু, সিলেট নগরের ‘পেন্সিল আর্ট স্কুল’-এর পরিচালক ও চারুশিল্পী মো: এনামুল হক, চারুশিল্পী সত্যজিৎ চক্রবর্তী, চারুশিল্পী হিমাংশু হিমু, চারুশিল্পী তারেক আমিন, ছাতক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক দিপালী রানী দাস, চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্ত’র ছেলে অভিজিৎ দাস গুপ্ত বিজয়। উপস্থিত ছিলেন সৌমিত্র মজুদার, সমাদৃতা সিকদার, রজত তরফদার প্রমুখ।

জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিলো- ১১ ফেব্রুয়ারি শনিবার ‘স্মৃতিতে অরবিন্দ দাসগুপ্ত’ শিরোনামে বিশেষ কর্মশালা। কর্মশালাটি সিলেট নগরের কুয়ারপাড়স্থ পার্বন মিউজিক্যাল সাউন্ড সিস্টেম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ। ১২ ফেব্রæয়ারি রবিবার সকাল ৮টায় প্রয়াত চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাসগুপ্তের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং ‘অরবিন্দ দাসগুপ্ত মেলা’র উদ্বোধন করেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ। এরপর সকাল ১০টায় সিলেট নগরের জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমিতে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

দ্বিতীয় পর্ব সন্ধ্যা ৬টায় স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, অরবিন্দ দাসগুপ্ত হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জে ১৯৫১ সালের ১২ ফেব্রæয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। এই গুণী চিত্রশিল্পী ২০২১ সালের ১৮ জুলাই রবিবার সকাল ১০টা ২২ মিনিটে সিলেট নগরের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিংবদন্তি এই চিত্রশিল্পী মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ ছেলে সন্তান ও ১ মেয়ে সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী, আত্বীয়-স্বজন এবং হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী রেখে গেছেন। শিল্পকর্মে নিবেদিত প্রাণ গুণী শিল্পীর খ্যাতি দেশজুড়ে রয়েছে। চিত্রশিল্পী ও চিত্রকলার শিক্ষক হিসেবে তিনি অসংখ্য সৃষ্টি ও শিক্ষার্থী তৈরি করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সিলেট শাখা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সিলেট শাখার চারুকলার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি শিশু চারু বিদ্যালয় ‘চারুকলি’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন।

 

– বিজ্ঞপ্তি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।